নান্দনিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ করে 'সুখসাগর ট্যুরিজম ইকোপার্ক'

নান্দনিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ করে 'সুখসাগর ট্যুরিজম ইকোপার্ক'
নান্দনিক সৌন্দর্য মুগ্ধ করে 'সুখসাগর ট্যুরিজম ইকোপার্ক'

আবদুর রাজ্জাক, দিনাজপুর।।

সুগন্ধি চাল, লিচু আর পাঁপড়ের জেলা দিনাজপুর। পর্যটন নগরী হিসেবেও এর রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। এমনকি দেশের বাইরেও এর পরিচিতি ছড়িয়েছে। বিশেষ করে ঐতিহাসিক কান্তজিউ মন্দিরের টেরাকোটা শিল্পকীর্তি বিদেশি পর্যটকদের এখনও টেনে আনে দিনাজপুরে। তবে জাতীয় উদ্যান রামসাগরের পর পর্যটন ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে যোগ হয়েছে সুখসাগর ট্যুরিজম ইকোপার্ক। সুখসাগর ট্যুরিজম ইকোপার্ক ট্যুরিস্টদের হৃদয়ে তাৎক্ষণিকভাবেই যেন একটা সুখের দোলা দেয়। সুখসাগরের নান্দনিক সৌন্দর্য মুগ্ধ করে যে কাউকে। বিনোদন জগতে দিনাজপুরের ভ্রমণপিপাসুদের হৃদয় কেড়ে নিয়েছে ইকোপার্ক।

স্থানীয়রা জানান, দিনাজপুরের সুপ্রাচীন বৃহৎ দীঘিগুলোর মধ্যে সুখসাগর অন্যতম। দিনাজপুর রাজবাড়ী থেকে মাত্র ১০০ গজ পুর্বদিকে রাজা সুকদেবের স্মৃতিবাহী সুখসাগর সব পর্যটকের হৃদয়েই যেন সুখের দোলা দেয়। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ১ কোটি ৪৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালে সুখসাগর ট্যুরিজম ইকোপার্ক নির্মাণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। দিনাজপুর শহর থেকে উত্তর-পূর্বদিকে ২ কিলোমিটার দূরে রাজবাটি এলাকায় অবস্থিত সুখসাগর ট্যুরিজম ইকোপার্ক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। দিনাজপুর সদর উপজেলাসহ অন্য উপজেলাগুলোর সাধারণের পছন্দসই ভ্রমণের জন্য পিকনিক ও ট্যুরিস্ট স্পট হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে এ ইকোপার্ক। এ ছাড়া সুখসাগর ইকোপার্কটিতে পাখির অভয়াশ্রম তৈরি করা হয়েছে, যা জীববৈচিত্র্যে সংরক্ষণ তথা পরিবেশ উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রায় ২৩ একর জায়গার ওপর বেষ্টিত সুখসাগর ট্যুরিজম ইকোপার্কের পূর্ব পাড়ে গাছ-গাছালিতে ভরা একটি উদ্যান রয়েছে। দক্ষিণে রয়েছে পর্যটকদের বিশ্রামাগার ও খেলনাসামগ্রী। সঙ্গে রয়েছে একটি দৃষ্টিনন্দন লেক। লেকের ওপর নির্মিত দুটি ওভারব্রিজ ইকোপার্কটিকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে ফুটিয়ে তুলেছে।

পার্কের ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা জানান, এই করোনাকালে পর্যটকদের আনাগোনা কম থাকলেও এর আগে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আলোয় আলোকিত থাকত এই ইকোপার্ক।

তবে সারা দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ার পর পুনরায় সুখসাগরও জৌলুস ফিরে পাচ্ছে। ভ্রমণপিপাসুদের দাবি, মানুষের চিত্তবিনোদনের জন্য বর্তমান সরকার যেমন কাজ করে যাচ্ছে, তেমনি হুইপ ইকবালুর রহিম এমপির ঐকান্তিক চেষ্টায় দিনাজপুরে সুখসাগর ট্যুরিজম ইকোপার্ক নির্মাণ ও আধুনিকায়ন করা সম্ভব হয়েছে।