থ্যাংকস গিভিং ডে - পলি শাহিনা

থ্যাংকস গিভিং ডে - পলি শাহিনা
থ্যাংকস গিভিং ডে - পলি শাহিনা

হেমন্তের খোলা আকাশের নিচে হাঁটছি। মেঘলা আকাশ, কুয়াশাজড়ানো চারপাশ। বাতাসের শরীরজুড়ে হালকা শীতের আমেজ। শীত - উষ্ণতার খুনসুটি চলছে প্রকৃতিতে। আজ ২০২০ সাল, নভেম্বর মাসের শেষ বৃহস্পতিবার। আজ থ্যাংকসগিভিং ডে বা ধন্যবাদ জ্ঞাপন দিবস। আমেরিকায় আসার আগে এ দিন সম্পর্কে অবগত না থাকলেও এ দেশে এসে দেখেছি, এ দিনটি মূলত আনন্দ -উৎসব- প্রার্থনার দিন। এ ২০২০ সালের থ্যাংকস গিভিং ডে'র চিত্র, গত দুই দশক ধরে আমার দেখে আসা থ্যাংকস গিভিং ডে'র চিত্র থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

এ শহরের মানুষের চোখে উৎসবের পরিবর্তে আজ জল, অনিশ্চয়তা। উৎসবের তেমন কোন রঙিন আমেজ নেই কোথাও। মানুষ কাঁদলে শহর কাঁদে, প্রকৃতি কাঁদে। গন্তব্যহীন উদাস হাঁটছি। জীবন থেকে ঝরে যাওয়া চেনা- অচেনা মানুষগুলোর জন্য মন কাঁদছে।

বড় মন খারাপের বছর এ ২০২০ সাল। এত মৃত্যুর খবর আমি/ আমরা কেউ পাইনি জীবদ্দশায়, এ বছরের আগে কখনো। একটি এম্বুলেন্স করুণ সুর তুলে আমাকে পাশ কাটিয়ে চলে যায়। এম্বুলেন্সের শব্দ শুনলেই আমার বুক কাঁপতে থাকে। শুধু মনে হয় প্রচন্ড যন্ত্রণায় কেউ কাতরাচ্ছে। আমার দৃষ্টি ঝাপ্সা হয়ে আসে। কারণ বাবা-মায়ের নিষ্প্রাণ দেহ বহনকারী এম্বুলেন্সের শব্দ আমার বুক ভেঙে দিয়েছে। গত মার্চ-এপ্রিল মাসের মত শ্বাসরুদ্ধকর দূর্বিষহ সময় জীবনে আগে কখনো আসে নি। পরে ক্রমশ সময়ের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি। সেসব দিনগুলোতে এম্বুলেন্সের শব্দে ঘুমাতে পারি নি অনেক দিন।

বিশ্বে করোনায় ১২ লক্ষেরও বেশী প্রাণ ঝরে গেছে। প্রতিনিয়ত চারপাশে চেনা - অচেনা মানুষের মৃত্যু সংবাদ পাচ্ছি। ইদানীং সবকিছুতে বড় বড় শূন্য শূন্য লাগে। কোথাও আলো, আনন্দ দেখি না। আমরা সবাই বাক্সবন্দী হয়ে পড়েছি। একা মরে যাওয়া যায়, একা বাঁচা যায় না। বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। এ দেশে মৃতের সংখ্যা ২ লক্ষ ৬০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এ মৃত্যুপুরীতে এখনো বেঁচে আছি এজন্য সৃষ্টিকর্তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ!
সুখ-দুঃখ, আনন্দ - হতাশা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে বাঁচতে শিখেছি! সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ! সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ!