ডাকবাক্সের আদলে তৈরি নজরকাড়া নতুন ডাক ভবন

শাহনেওয়াজ

ডাকবাক্সের আদলে তৈরি নজরকাড়া নতুন ডাক ভবন
ডাকবাক্সের আদলে তৈরি নজরকাড়া নতুন ডাক ভবন
জগন্ময়মিত্রের গাওয়া সেই চিরচেনা গানের কলি, ‘যত লিখে যাই চিঠি না ফুরায়’, আবার বাংলাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া গান হচ্ছে ‘চিঠি দিও প্রতিদিন চিঠি দিও... ।’
 
আর এক সময়ের দরাজ কণ্ঠশিল্পী এমএ হামিদ গেয়েছিলেন, ডাকপিয়নের একটি ডাকে চিঠি এলো...’ আরও একজন বিখ্যাত শিল্পী মো. আবদুল জব্বারের গাওয়া গান, ‘ডাকপিয়ন সারাটা দিন চিঠি বিলি করে বেড়ায়...’।
 
এত গানের উল্লেখ করার কারণ চিঠির বাহক হচ্ছে ডাকপিয়ন। এখন ডাকপিয়নের চিঠির চালাচালি কমে গেলেও, ডাকঘরের গুরুত্ব এখনও কমেনি। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ‘ডাকঘর’ এখনও অনেকের কাছে সমাদৃত। কারণ মানুষের মানস জগতে চিঠি, ডাকঘর গুরুত্ব বহন করে।
 
গুলিস্তানের কেন্দ্রীয় ডাকঘর যা জিপিও সবার কাছে সুপরিচিত। সেই জিপিও এখন নতুন আঙ্গিকে নতুনভাবে আবিভর্‚ত হতে যাচ্ছে। তবে এখানে নয়, রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে। বিশাল বড় লাল টুকটুকে এক ডাকবাক্স। অবশ্য এই ডাকবাক্সে কোনো চিঠি ফেলা যাবে না। দৃষ্টিনন্দন এই ভবন নতুন ডাক ভবন হিসেবে খুব শিগগিরই সবার সামনে দৃশ্যমান হবে। অপেক্ষা শুধু প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের। কাগজে চিঠি না লেখার যুগে এতবড় ডাকবাক্স দেখেই সবাই অবাক! চোখের দৃষ্টি নড়ে না। দেখতে মনে হয় এ কোন রাজ্য। ১৪ তলার এই ভবনে নিচের তলায় বিশাল আকারে বেশ কয়েকটি ডাকটিকেট। তাও আবার দেওয়ালে খোদাই করা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থেকে শুরু করে জাতীয় চার নেতা, সাত বীরশ্রেষ্ঠের ছবি। এর সঙ্গে রয়েছে অল্প-স্বল্প কথায় তাদের বীরত্ব আর বীর সন্তানদের কীর্তিগাথার বর্ণনা, যা এক ঝলকে উপলব্ধি করা যায়।
 
নতুন ডাকভবনের ডাকবাক্সের আদলে কে তৈরি করল এই নকশা? জানা গেল স্থপতি কৌশিক বিশ্বাস। ভবনে ডাকঘরের একটি আবহ দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে, যা সবাইকে আকৃষ্ট করে। কবে শুরু হয়েছিল এই নতুন ভবনের কাজ? ২০১৬ সালের শেষের দিকে প্রায় পৌনে ১ একর জমির ওপর কাজ শুরু হয় এই ডাকভবনের। প্রথমে কথা ছিল আটতলা হবে। পরে আলোচনা ও পর্যালোচনা শেষে ১৪ তলায় দাঁড়ায়। এই ভবনের জন্য ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৯২ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব টাকায় এই ভবন তৈরি করা হয়েছে।
 
রাজধানীর বহুল পরিচিত একটি নাম জিপিও যাকে বলে জেনারেল পোস্ট অফিস। অর্থাৎ দেশের প্রধান ডাকঘর। গুলিস্তানের জিরো পয়েন্টের কাছে চিরচেনা জিপিও চলে যাচ্ছে ঢাকার অন্য প্রান্তে। ৫৫ বছর পর এই ভবন স্থানান্তর হলেও এর কিছু কার্যক্রম এখানেই থেকে যাবে বলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। নতুন ভবনে শুধু প্রশাসনিক কাজ চলবে। বাকি কাজ এখানেই হবে। তবে আস্তে আস্তে সব কার্যক্রম নতুন ভবনেই চলে যাবে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

এখানে সবুজ উদ্যান গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ডাক বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা। জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী একনেক সভায় জিপিওর স্থানটিকে সবুজ উদ্যান হিসেবে গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। এই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। যে চিঠিতে জিপিওর অন্য কার্যক্রম আরও কিছুদিন চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। - সময়ের আলো ।