চসিকে'র সাড়ে ৩ হাজার পরিচ্ছন্নকর্মী, তবুও নগরীর সড়ক, নালা-নর্দমা আবর্জনায় ভরা

সবুর শুভ ।।

চসিকে'র সাড়ে ৩ হাজার পরিচ্ছন্নকর্মী, তবুও  নগরীর সড়ক, নালা-নর্দমা আবর্জনায় ভরা

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) পরিচ্ছন্ন বিভাগে স্থায়ী-অস্থায়ী এবং ডোর টু ডোর প্রকল্প মিলে বর্তমানে পরিচ্ছন্ন কর্মীর সংখ্যা সাড়ে তিন হাজারের বেশি (৩ হাজার ৬৪৭ জন)। তাদের কার্যক্রম তদারকি করার জন্য রয়েছেন ৯২ জন সুপারভাইজার। এরপরও নগরীতে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের বাস্তব অবস্থা কি স্বস্তিদায়ক? এমন প্রশ্ন করেছেন ভুক্তভোগী নগরবাসী। চসিকের নিয়ম মতে, এসব কর্মী প্রতিটি ওয়ার্ডের নালা-নর্দমা এবং ড্রেন পরিষ্কার করে। তবুও নগরের নালা-নর্দমা এবং ড্রেন বর্জ্যে ভরপুর থাকে। এসব নালায় প্রজনন হচ্ছে মশা। আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে অস্বস্তিকর পরিবেশ। চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, চসিকের ৪১ ওয়ার্ডে নালা-নর্দমা ও ড্রেন পরিষ্কারের জন্য ১ হাজার ৬৬৯ জন পরিচ্ছন্ন কর্মী আছে। এর মধ্যে স্থায়ী ৭৬৩ জন এবং অস্থায়ী ৯০৬ জন। তাছাড়া দুই বছর আগে ‘ডোর টু ডোর’ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ প্রকল্পের জন্য নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হয় আরো ১ হাজার ৯৭৮ জন। সব মিলে বর্তমানে ৩ হাজার ৬৪৭ জন পরিচ্ছন্নকর্মী বর্জ্য অপসারণ কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। এ হিসাবে প্রতি ওয়ার্ডে আছে ৮৯ জন। সুপারভাইজারের সংখ্যাও ওয়ার্ডভিত্তিক একাধিক হওয়ার কথা। তবুও নালা নর্দমায় আবর্জনা থাকে বলে অভিযোগ আছে। অনেক এলাকায় পরিচ্ছন্ন কর্মী যেমন দৃশ্যমান নয় তেমনি দৃশ্যমান নয় সুপারভাইজারদের তদারকিও। এ ধরনের অভিযোগ বিভিন্ন এলাকার মানুষের সাথে কথা বললেই পাওয়া যায়। এ অবস্থায় মশক নিধন কার্যক্রমে আরো নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
প্রসঙ্গত, চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ডেঙ্গু রোগ মহামারি আকার ধারণ করার আগেই নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঢাকার তুলনায় চট্টগ্রামে আক্রান্তের সংখ্যা কম। তবে এই ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে চসিকের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা আপনাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত। কারণ নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে বিগত বছরের তুলনায় কয়েক গুণ পরিচ্ছন্ন কর্মী রয়েছে।’
নগরবাসীর অভিযোগ, এত পরিচ্ছন্নকর্মী ও সুপারভাইজার থাকার পরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে নগরের একি হাল? পথে পথে আবর্জনার ছড়াছড়ি, নালা-নর্দমাগুলো আবর্জনায় ঠাসা। সরেজমিনে এলাকায় এলাকায় হাঁটলেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রকৃত অবস্থা বোঝা যাবে।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, পরিচ্ছন্ন কর্মীরা রাস্তার উপর পড়ে থাকা পাতা ও কাগজপত্র পরিষ্কার করেই দায়িত্ব সারছেন। রাস্তার উপর জমে থাকা পানি ও মাটি পরিস্কার করতে দেখা যায় না। অথচ এসব স্থান ও নালা-নর্দমা থেকেই প্রজনন হচ্ছে মশার। এখন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ দেখা দেওয়ায় আতঙ্ক আরো কয়েক গুণ বৃদ্ধি হয়েছে।
এক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধনে ঝাঁপিয়ে পড়ার পরামর্শ দেন কনজ্যুমার এসোসিয়েশনের সভাপতি (চট্টগ্রাম) এস এম নাজের হোসাইন। একইসাথে নগরবাসীকেও সচেতনভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
এ বিষয়ে চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দিকীর বক্তব্য হচ্ছে, পরিচ্ছন্নকর্মীরা প্রতিদিন যথানিয়মে নালা পরিষ্কার এবং ঝাড়ু দেওয়ার কাজ করে থাকে। এটার জন্য রুটিনও আছে। তাছাড়া পরিচ্ছন্নকর্মীদের তদারকির জন্যও আছেন ৯২ জন সুপাইভাইজার। ফলে এখানে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। এরপরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব আমাদের।