চট্টগ্রামের তামিম হলো মাশরাফির উত্তরসূরি ,দেশের ১৪তম ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম

চট্টগ্রামের তামিম হলো মাশরাফির উত্তরসূরি ,দেশের ১৪তম ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম
চট্টগ্রামের তামিম হলো মাশরাফির উত্তরসূরি ,দেশের ১৪তম ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম

ক্রীড়া প্রতিবেদক ।।

সম্প্রতি শেষ হওয়া জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডের আগেরদিন মাশরাফির আচমকা ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা পর থেকে চারিদিকে একটিই রব কে হবেন মাশরাফির উত্তরসূরি। এমন কাউকে কি পাওয়া যাবে যিনি মাশরাফির মতো নেতৃত্ব দিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। মাশরাফি নিজের চাওয়া ছিল সিনিয়র একজনকে দীর্ঘমেয়াদে দেয়া হোক। সাকিব আপাতত নির্বাসনে থাকায় তালিকায় ছিলেন মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ ও তামিম ইকবাল। গুঞ্জন বেশি ছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে। কিন্তু বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের নতুন অধিনায়ক হলেন তামিম ইকবাল। রোববার অধিনায়ক হিসেবে তার নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

তামিম অধিনায়ক হচ্ছেন-এমন একটা খবর রোববার সকাল থেকেই ভেসে বেড়াচ্ছিল ক্রিকেটাঙ্গনে। তবে অনেকেই এগিয়ে রেখেছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে। তিনিই যে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। তবে তার ফর্ম নিয়ে কিছুটা শঙ্কা আছে। এ কারণেই ওপেনার তামিমকে বেছে নিয়েছে বিসিবি। যদিও দেশের ১৪তম ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে তামিম শ্রীলঙ্কা সফরে তিনটি ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি তামিম সেটি মনে রাখবেন না নিশ্চিত। ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ হওয়ার নেতৃত্ব মনে না রাখাটাইু স্বাভাবিক।

জিম্বাবুয়ে সিরিজের শেষ ম্যাচ খেলেই নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। তার জায়গায় এখন দেখা যাবে তামিমকে। এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়েই অধিনায়ক তামিমের আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হবে। মাশরাফি বিন মর্তুজা সরে দাঁড়ানোর পর মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর তামিম ইকবালের নাম আসে আলোচনায়। যদিও তিন সিনিয়র ক্রিকেটারের কেউই স্বল্প মেয়াদে দলের অধিনায়কত্ব নিতে রাজি ছিলেন না। রোববার এ নিয়ে মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় বোর্ড সভা। যেখানে সিদ্ধান্ত হয়- তামিম ইকবালই ওয়ানডে অধিনায়ক। এবার মাশরাফির জায়গায় তামিম। মাশরাফি ৮৮টি ওয়ানডে ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দলকে এনে দিয়েছেন সর্বোচ্চ ৫০টি ওয়ানডে জয়।

তবে তামিম ইকবাল কতোদিনের জন্য নেতৃত্বে এসেছেন তা পরিষ্কার নয়। সাকিব আল হাসান নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরলে হয়তো তাকে দেখা যেতে পারে নেতৃত্বে। জুয়াড়িদের কাছ থেকে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়ে তা গোপন রাখার অপরাধে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ সাকিব। তার জায়গায় টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আর টেস্টের অধিনায়ক মুমিনুল হক। তবে বোর্ডের পক্ষ থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না জানানো পর্যন্ত, তামিমই থাকবেন ওয়ানডে অধিনায়ক। তবে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, দীর্ঘ মেয়াদেই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তামিমকে। কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার কথা বলেননি বিসিবি সভাপতি।

একই ফ্রেমে সদ্য সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি ও তাঁর স্থলাভিষিক্ত তামিম ইকবাল। সিলেটে মাশরাফির অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিরিজে তোলা ছবিতে তামিমকে কিছু একটা বোঝাচ্ছেন মাশরাফি।

তামিমের অধিনায়কত্বের খতিয়ান:
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনটি ওয়ানডে ও একটি টেস্টে নেতৃত্ব দেয়া তামিম ইকবালের ঘরোয়া ক্রিকেটে অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা আছে। ২০১০-১১ থেকে তিনি অনেক ম্যাচেই তিনি তাঁর দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১০-১১ মৌসুমে ঢাকা লিগে তিনি একটি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছিলেন। পাশাপাশি ২০১২-১৩ মৌসুমে জাতীয় লিগে ২টি ম্যাচ আর ২০১৩-১৪ মৌসুমে বিসিএলে দুটি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ২০১৩-১৪ মৌসুমে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে দুটি ম্যাচে নেতৃত্ব দিলেও ২০১৬ সালে পুরো মৌসুমে আবাহনীর অধিনায়ক ছিলেন তিনি। ২০১৩ বিপিএলে দুরন্ত রাজশাহীকে তিনটি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ২০১৫ থেকে বিপিএল টানা তিন মৌসুমে তিনি অধিনায়কত্ব করেছেন।

পরিবারের অনুভূতি:
দেশের চৌদ্দতম ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে তামিম ইকবালের নাম ঘোষণার পর থেকে আনন্দের ফল্গুধারা বয়তে শুরু করে কাজীর দেউরিস্থ বিখ্যাত খান পরিবারে। যদিও নেতৃত্বের গুণাবলী খান পরিবারের জন্য স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। তাদের চাচা আকরাম খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সোনালী যুগের শুরু। বাংলাদেশ জাতীয় দলের তৃতীয় অধিনায়ক হিসেবে আকরাম খান বাংলাদেশকে ১৯৯৭ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আইসিসি ট্রফি চ্যাম্পিয়ন করে বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই ১৯৯৮ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ তার প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জয় পায়।

এবার তাঁর ভাইপো তামিম ইকবালকে অধিনায়ক ঘোষণার পর বাড়িতে বয়ে যাচ্ছে আনন্দের ঢেউ। তামিমের অগ্রজ সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার নাফিজ ইকবাল জানান, ‌’তামিমকে দীর্ঘমেয়াদে অধিনায়ক ঘোষণা করায় আমরা ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞ। সে আগেও দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছে, আশাকরি এবার সে পরিকল্পনা নিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এজন্য আমরা পুরো পরিবার তামিমের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই। স্বাভাবিকভাবেই আমরা অনেকবেশি খুশি।’